
বিশেষ প্রতিনিধি।
ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাজার সংলগ্ন “ডুবাই বাড়িতে” ২১-০৫-২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার সময় এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয় জনসাধারণ, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন মহলের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, ঘটনাটি প্রকাশের পর গণমাধ্যমকর্মীরা তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রচারের দায়িত্ব পালন করতে গেলে তাদের উপর সন্ত্রাসী মাদক সেবী নাইমের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ২২-০৫-২০২৬ তারিখে শশীভূষণ থানায় হামলার ঘটনায় মামলা নং ২৩৪/২৬ দায়ের করা হলেও অভিযোগ রয়েছে—মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য নাঈমের নেতৃত্বে বিভিন্নভাবে চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের দাবি, ভোলা জেলার মানবতার সেবক -পুলিশ সুপার মৃতের ঘটনাটি সোনার সাথে সাথে ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্টদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিশেষ করে মৃত শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, নিকট আত্মীয়দের ফোন রেকর্ড, ঘটনাস্থলের আলামত, সিলিং ফ্যানের কাঠামো, ওড়নার অবস্থান, ঘটনাস্থলের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন বিষয় ফরেনসিকভাবে পরীক্ষা করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল।
তবে অভিযোগ উঠেছে, মাঠপর্যায়ে তদন্তের সময় এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটনের স্বার্থে আরও গভীর, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত প্রয়োজন।
এদিকে গণমাধ্যমের উপর হামলা ও মামলা প্রত্যাহারের চেষ্টার অভিযোগ বিষয়টিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। সংবাদ সংগ্রহ ও সত্য প্রকাশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হওয়া গণতান্ত্রিক সমাজ ও আইনের শাসনের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
বাংলাদেশের সংবিধান, ফৌজদারী কার্যবিধি ও মানবাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী যেকোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একইসঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাই মাননীয় প্রধান বিচারপতি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর, আইজিপি, মানবাধিকার কমিশন, বাংলাদেশ আইনজীবী ফেডারেশন ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের নিকট গণমাধ্যমের আবেদন—
ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হোক,
সকল আলামত পুনরায় ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগতভাবে পরীক্ষা করা হোক,
গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক,
মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ বা হুমকির অভিযোগ তদন্ত করা হোক,
এবং তদন্তের অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক।
আমরা বিশ্বাস করি, সত্য কখনো স্থায়ীভাবে চাপা থাকে না।
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন রক্ষাই একটি সভ্য রাষ্ট্রের প্রধান ভিত্তি।
— ন্যায়বিচার প্রত্যাশী সচেতন নাগরিক ও গণমাধ্যমকর্মী
Leave a Reply