
যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে নিয়োগ পাওয়া শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির মেজ ভাই শরীফ ওমর বিন হাদির একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে পরিবারিক মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ফেসবুকে দেওয়া পৃথক পোস্টে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন শরীফ ওমর বিন হাদি ও শহীদ হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা।
জানা যায়, শরীফ ওমর বিন হাদি তার ফেসবুক পোস্টে ছোট ভাই শহীদ শরিফ ওসমান হাদির একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, তিনি শহীদ হাদির একমাত্র সন্তান ফিরনাস ইবনে ওসমান হাদিকে নিরাপদ বসবাসের জন্য যুক্তরাজ্যে নিয়ে যেতে চান। পোস্টে তিনি আবেগঘন ভাষায় সন্তানের দায়িত্ব তার হাতে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
এরপর শহীদ হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পা ওই পোস্টটি শেয়ার করে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, “ওসমান হাদির বউ কোনো প্রোডাক্ট না যে কেউ চাইলেই নিয়ে নিবে। আর ফিরনাসকে সবাই নিতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। বাই দা ওয়ে ফিরনাসের বাবা একজনই, তিনি শহীদ ওসমান হাদি।”
পরিবারের এই প্রকাশ্য মতবিরোধ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিষয়টিকে পারিবারিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছেন, আবার কেউ সন্তানের সর্বোত্তম স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
এদিকে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে শরীফ ওমর বিন হাদিকে তিন বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে জনস্বার্থে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি গত ১২ ডিসেম্বর দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ২০ ডিসেম্বর তার জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেন।
Leave a Reply