
বিশেষ প্রতিনিধি:
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এরশাদের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, তথ্য গোপন এবং স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প—যেমন গ্রামীণ সড়ক সংস্কার ও মেরামত, মাটি ভরাট, কালভার্ট ও ড্রেন নির্মাণ, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, আশ্রয়ণ ও দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুদান এবং খাদ্যশস্য (জিআর) বিতরণ—এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, অনেক প্রকল্পে কাগজে-কলমে কাজ শতভাগ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে কাজের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া অসমাপ্ত কাজের বিল পরিশোধ, ঠিকাদারি কার্যক্রমে অনিয়ম এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগও করেছেন তারা।
স্থানীয়দের আরও দাবি, চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকা ও বরাদ্দসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হলেও তা সরবরাহ করা হয়নি। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটেও প্রয়োজনীয় প্রকল্পতথ্য হালনাগাদ নেই, ফলে কোন প্রকল্পে কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং কাজের অগ্রগতি কতটুকু—এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে তথ্য জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি,তবে তাহার সহকারি দশ বছর ধরে একই চেয়ারে থাকা মানুষটিকে পাওয়া গেছে । পরে মুঠোফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতার কথা জানান। অভিযোগকারীদের দাবি, এরপরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পিআইওর কাছ থেকে কোনো বক্তব্য বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, সদর দক্ষিণ উপজেলার পিআইওর অধীনে বাস্তবায়িত সব উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ, কার্যাদেশ, বাস্তবায়নের অগ্রগতি, বিল-ভাউচার ও পরিমাপ বই (Measurement Book) নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা হোক। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
#বিস্তারিত জানতে দ্বিতীয় পর্বে সাথে থাকুন,
০১৩২৩০০২৩৭৭
Leave a Reply