
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ভোলা জেলার মৎস্য খাত আজ এক গভীর সংকটের মুখে। তেল সিন্ডিকেটের অযৌক্তিক দৌরাত্ম্যে জেলার হাজার হাজার জেলে পরিবার কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোলা জেলা বিশিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক শ্রমিক পার্টির সভাপতি আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন চকেট।
তিনি বলেন, ভোলা বাংলাদেশে অন্যতম বৃহৎ মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্র। এখানকার জেলেরা দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে মাছ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অথচ আজ সেই জেলেরা তেলের অভাবে সমুদ্রে যেতে পারছে না—এ এক চরম বৈপরীত্য।
তার অভিযোগ, অসাধু তেল সিন্ডিকেট আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান-আমেরিকার সংঘাতকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। এর ফলে হাজার হাজার মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকা অচল হয়ে পড়েছে। সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হলেও তা পেতে জেলেদের ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে, অনেকেই বাধ্য হয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ দামে অবৈধভাবে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার মৎস্যজীবীদের জন্য যে সহায়তা প্রদান করছে, তা একটি প্রভাবশালী চক্র আত্মসাৎ করছে। ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে এবং জেলে পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।
শুধু জেলেরা নয়, পরিবহন শ্রমিক ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষও তেলের সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। জীবনযাত্রা অচল হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শ্রমিক নেতা জামাল উদ্দিন চকেট কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে তেল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি ভোলা জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান—অসহায় মৎস্যজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং সিন্ডিকেটের কবল থেকে তাদের মুক্ত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যদি দ্রুত এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া না হয়, তাহলে ভোলার অর্থনীতি ভেঙে পড়বে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে নিপতিত হবে।”
Leave a Reply