1. mh01610093622@gmail.com : banglanetexpress :
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৬ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের ওয়েব সাইটে আপনাকে স্বাগতম... টিমি থিম, নিউজ পেপার থিম, ই-কমার্স থিম, কর্পোরেট থিম, স্কুল কলেজের থিমস কিনতে ভিজিট করুন www.themeneed.com  Themeneed.Com, Office :41/ Compact Bayazid square, Bayazid Bostami Rd, Nasirabad, Chaittagong, Mobile : 01310095939, 01859124823 Email : support@themeneed.com
সংবাদ শিরোনাম:
কেশবপুরে যুবদলের বর্ধিত সভায় নেতাকর্মীদের একাংশ বাদ, ক্ষোভে তৃণমূল দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা চরফ্যাশনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের কক্ষে নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ দীঘিনালায় অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসায় সেনাবাহিনীর আর্থিক সহায়তা। পুকুরে ডুবে নিহত নবম শ্রেণীর ছাত্র এওয়াজপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী আব্দুর রহমান হাজারী: ‘দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত’ বোরহানউদ্দিনে বাথরুমের ছাদ থেকে ৩টি গাঁজা গাছ উদ্ধার, আটক ১ স্বাধীনতার এত বছর পরও কাঁচা রাস্তা, দুর্ভোগে কাচিয়ার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারো মানুষ দীঘিনালায় DSF-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প দুই স্হানে ৫ শতাধিক মানুষকে চিকিৎসাসেবা প্রদান বোরহানউদ্দিনে প্রধান শিক্ষক ও সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি এলাকাবাসীর

কুষ্টিয়ায় নিয়োগ বাণিজ্যের গডফাদার দৌলতপুরের ফয়সাল

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬
  • ৬২ বার ভিউ

মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার,

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার এক পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শকের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি সিন্ডিকেট পরিচালনা, চাকরি দেওয়ার নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং স্বল্প আয়ের চাকরি করেও বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে নানা তথ্য, নথি ও অভিযোগ পেয়েছে প্রতিবেদক দল। অনুসন্ধানে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নে কর্মরত পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মোঃ ফয়সাল আহমেদ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ফয়সালের পৈতৃক বাড়ি কিশোরীনগর এলাকায়, যা দৌলতপুর থানার নিকটে অবস্থিত। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া শহরে অবস্থান করছেন। তার নিজের চাকরিও প্রক্সির মাধ্যমে নেওয়া। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অসাধু উপায় অবলম্বন করে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি।
মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থী পরিবর্তন, প্রক্সি পরীক্ষার্থী সরবরাহ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ফয়সালের ভাই, ভাইয়ের স্ত্রীসহ নিকটাত্মীয়দের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পেয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার এক স্ত্রীকেও অন্য একজনের মাধ্যমে প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ানোর কৌশলে স্বাস্থ্য বিভাগে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি মেহেরপুর সদর হাসপাতালে কর্মরত বলে জানা গেছে।
একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্রে অন্যের স্ত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে এসে পরবর্তীতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, মেডিকেল কলেজের নিয়োগ পরীক্ষা, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষা, কর অঞ্চল কার্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষাসহ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ফয়সাল সিন্ডিকেট সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কুষ্টিয়া জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে তাদের চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও অনুসন্ধানে জানা যায়। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রবিউল ইসলামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায় করেছেন ফয়সাল। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্যের তৎকালীন এপিএস আমজাদ হোসেন রাজু ও পিএস হীরণের মাধ্যমে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরেও বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন শিক্ষককে প্রায় ১১ লাখ টাকা দিয়ে প্রভাবিত করা হয়। বিনিময়ে প্রকৃত পরীক্ষার্থীর পরিবর্তে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ পুরো প্রক্রিয়ার মূল সমন্বয়ক ছিলেন ফয়সাল বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ফয়সালের বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে ‘ক্যাপ্টেন’ নামে পরিচিত একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।
মেডিকেল কলেজের একটি নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ওই সহযোগীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৪০ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন সহযোগীর নাম প্রতিবেদক দলের হাতে এসেছে, যেগুলো পরবর্তী অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে। অভিযোগ রয়েছে, কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় রাজবাড়ীতে কর্মরত এক ব্যাংক কর্মকর্তার নামে ভাড়া নেওয়া একটি বাসায় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা চাকরিপ্রত্যাশীদের রাখা হতো। সেখানে তাদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তুতি ও যোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালিত হতো বলেও জানা গেছে। স্বল্প আয়ের সরকারি চাকরি করলেও ফয়সালের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ৪২টি দোকান সম্বলিত একটি মার্কেট, একাধিক প্লট, জমি, ফ্ল্যাট এবং নিজ নামে বিভিন্ন স্থানে বাড়ি ও সম্পত্তি রয়েছে তার। এছাড়া তিনি ব্যক্তিগতভাবে দুটি গাড়ি ব্যবহার করেন। তার ড্রাইভার হিসেবে কিবরিয়া নামের একজন কর্মরত রয়েছেন বলেও জানা গেছে। যার বিস্তারিত পরবর্তী পর্বে তুলে ধরা হবে। অভিযোগ রয়েছে, ফয়সাল এ পর্যন্ত চারটি বিয়ে করেছেন। তার তিন স্ত্রী বর্তমানে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছেন। প্রতিটি স্ত্রীর কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে বলেও অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তার চাকরিজীবনের বয়স প্রায় ১০ বছর এবং মাসিক বেতন আনুমানিক ৩০ হাজার টাকার কাছাকাছি। তবে এই আয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এছাড়া আসন্ন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে ১০ কোটিরও বেশি টাকা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে ফয়সালের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একাধিক চেক, স্ট্যাম্প, চাকরিপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্তসহ বিভিন্ন নথির কপি প্রতিবেদক দলের হাতে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব নথি যাচাই করে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
সাম্প্রতিক কর অঞ্চল নিয়োগ পরীক্ষায় আটক চারজনের মধ্যে তিনজনের বাড়ি দৌলতপুর উপজেলায়। তারা ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের চার কর্মকর্তা এবং কয়েকজন শিক্ষকের সম্পৃক্ততার অভিযোগও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ ও তথ্য যাচাই শেষে সেসব বিষয় পরবর্তী পর্বে প্রকাশ করা হবে। অভিযোগের বিষয়ে মোঃ ফয়সাল আহমেদ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ফয়সালের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Desing & Developed BY ThemeNeed.com