
মোঃ আশরাফ ইকবাল পিকলু মাজমাদার
খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান।
কুষ্টিয়ার মাটি যেন চিরকালই সম্ভাবনার গল্প বলে। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিয়েছেন এক উদ্যমী তরুণ উদ্যোক্তা—মোঃ রাশেদ হাবিব। তার হাত ধরেই গড়ে উঠেছে আধুনিক কৃষি ও প্রাণিসম্পদের এক অনন্য ঠিকানা—“মায়া এগ্রো ফার্ম।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পার্টিগাবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর মাগুরার সবুজ-শ্যামল পরিবেশে প্রতিষ্ঠিত এই খামারটি আজ স্থানীয় কৃষি খাতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দূর থেকে তাকালেই চোখে পড়ে সুশৃঙ্খল খামার,পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং যত্নে লালিত গবাদিপশুর সারি—যা যে কাউকে মুগ্ধ করে।
মোঃ রাশেদ হাবিব জানান,ছোটবেলা থেকেই কৃষির প্রতি ছিল তার গভীর ভালোবাসা। আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে তিনি এই খামারটি গড়ে তুলেছেন। এখানে উন্নত জাতের গরু পালন,সুষম খাদ্য সরবরাহ এবং নিয়মিত পশু চিকিৎসার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে সর্বোচ্চ উৎপাদন ও মান।
মায়া এগ্রো ফার্ম এ শুধু গবাদিপশু পালনই নয়,রয়েছে সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার ছোঁয়া। খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ—সবকিছুতেই দেখা যায় আধুনিকতার ছাপ। ফলে এই খামারটি শুধু লাভজনকই নয়,পরিবেশ সচেতনতার দিক থেকেও অনুকরণীয়।
স্থানীয় যুবকদের জন্যও এই খামারটি এক অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। অনেকেই এখানে এসে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন,শিখছেন আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা এবং নিজেরাও উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
এ প্রসঙ্গে রাশেদ হাবিব বলেন,আমি চাই,দেশের তরুণরা বেকার না থেকে কৃষিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করুক। সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকলে এই খাতেই রয়েছে অপার সম্ভাবনা।
বর্তমানে মায়া এগ্রো ফার্ম কুষ্টিয়া অঞ্চলে একটি বিশ্বস্ত নাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। খামারের উৎপাদিত গবাদিপশু,ছাগল ও গড়াল মানসম্মত হওয়ায় ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেছে সহজেই।
সব মিলিয়ে,মায়া এগ্রো ফার্ম আজ শুধু একটি খামার নয়—এটি একটি স্বপ্ন,একটি সংগ্রামের গল্প এবং সফলতার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। কুষ্টিয়ার মাটিতে এমন উদ্যোগই বদলে দিচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র,এনে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনার আলো।
Leave a Reply