
যশোর জেলা প্রতিনিধি,
যশোরের কেশবপুরে আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ভিজিএফ কার্ডের ১০ কেজি করে চাল পাবে ২১”হাজার ৫”শ ২১ উপকারভোগী পরিবার। এর মধ্যে পৌরসভার ৪”হাজার ৬”শ ২৫ ও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ১৬”হাজার ৯”শ ৫৬ পরিবারের মাঝে এ চাল বিতরণ করা হবে। তবে চাল বিতরণে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ উঠেছে যশোর-৬ আসনের এমপি অধ্যাপক মুক্তার আলীর বিরুদ্ধে। তিনি প্রভাব খাটিয়ে পৌরসভার ৪৫ শতাংশ কার্ড ও উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নের ৩০ শতাংশ ভিজিএফ কার্ডের চাল তাঁর দলের পক্ষে নিয়ে নেওয়ায় শত শত অতি দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ পরিবার বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে পৌরসভাসহ উপজেলাব্যাপী সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সূত্র জানায়, আগামী ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় পৌরসভার ৪”হাজার ৬”শ ২৫ উপকারভোগী পরিবার ও উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ১৬”হাজার ৯”শ ৫৬ উপকারভোগী পরিবারের মাঝে ভিজিএফ কার্ডের ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুক্তার আলী তাঁর প্রভাব খাটিয়ে এ চালের পৌরসভার ৪৫ শতাংশ কার্ডের চাল জামায়াতে ইসলামী, ৪৫ শতাংশ কার্ডের চাল বিএনপি, ও ১০ শতাংশ কার্ডের চাল পৌর প্রশাসকের মাধ্যমে এবং উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৩০ শতাংশ কার্ডের চাল জামায়াতে ইসলামী, ৩০ শতাংশ কার্ডের চাল বিএনপি, ২০ শতাংশ কার্ডের চাল ইউপি সদস্য ও ২০ শতাংশ কার্ডের চাল চেয়ারম্যান বা প্রশাসকের মাধ্যমে বিতরনের নির্দেশনা দেন উপজেলা প্রশাসনকে। এ নিয়ে পৌরসভাসহ উপজেলাব্যাপী বিএনপি নেতা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পৌরসভার সচিব এনামুল হক বলেন, আগামী ৮মার্চ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৪”হাজার ৬”শ ২৫ উপকারভোগী পরিবারের মাঝে ভিজিএফ কার্ডের ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপজেলার ১৬”হাজার ৯”শ ৫৬ উপকারভোগী পরিবারের মাঝে ভিজিএফ কার্ডের চাল বিতরণ করা হবে। তারমধ্যে উপজেলার ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের ১”হাজার ১”শ ৬৬, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের ২”হাজার ২”শ ৫৩, মজিদপুর ইউনিয়নের ১”হাজার ৬”শ ৯১, বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের ১”হাজার ৩”শ ৪৯, মঙ্গলকোট ইউনিয়নের ১”হাজার ৬”শ ৩০, সদর ইউনিয়নের ১”হাজার ৭”শ ০৭, পাঁজিয়া ইউনিয়নের ১”হাজার ৭”শ ১১, সুফলাকাটি ইউনিয়নের ১”হাজার ২”শ ৫৫, গৌরীঘোনা ইউনিয়নের ১”হাজার ৫”শ ১৫, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ১”হাজার ৩”শ ৬১ ও হাসানপুর ইউনিয়নের ১”হাজার ৩”শ ১৮ উপকার ভোগী পরিবারের মাঝে এ চাল বিতরণ করা হবে।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির বিশ্বাস বলেন, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তার আলীর হস্তক্ষেপে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৩০ শতাংশ চাল জামায়াতে ইসলামী, ৩০ শতাংশ চাল বিএনপি, ২০ শতাংশ চাল ইউপি সদস্য ও ২০ শতাংশ চাল চেয়ারম্যান বা প্রশাসকের মাধ্যমে বিতরনের সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা প্রশাসন। এ কারনে প্রকৃত উপকারভোগী পরিবারগুলো চাল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে।
এ বিষয়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, পৌরসভার ৪৫ শতাংশ কার্ডের চাল জামায়াতে ইসলামী, ৪৫ শতাংশ কার্ডের চাল বিএনপি, ও ১০ শতাংশ কার্ডের চাল পৌর প্রশাসকের মাধ্যমে বিতরণ হবে। কিন্তু এ চাল বিতরণে বিএনপি কোন নেতা কর্মীর সম্পৃক্ততা নেই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌরসভার প্রশাসক রেকসোনা খাতুন বলেন, সকলের কাছ থেকে তালিকা নেওয়া হয়েছে। যাচাই বাছাই করা করা হচ্ছে। যারা পাওয়ার যোগ্য তাদেরকে এ চাল দেওয়া হবে।
Leave a Reply