
মোঃ তুহিন ফরাজী প্রতিবেদক:
রাস্তামাথা, মনিরাম, হাকিমউদ্দিন এলাকায় দিন দিন বাড়ছে মাদকের বিস্তার। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সন্ধ্যার পর নির্দিষ্ট কিছু এলাকা কার্যত নেশাখোরদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যেই এই প্রবণতা বেশি।
একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের সন্তানরা সন্ধ্যার পর বাইরে গেলে ভয় লাগে। কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে, বুঝে ওঠা কঠিন।” অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদক সেবন ও বেচাকেনা হয়, কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খোলেন না।
যেসব স্থান নিয়ে অভিযোগ বেশি
পুরাতন হাকিমউদ্দিনে:
জসিম চেয়ারম্যান/হাওলাদার বাড়ির পেছনের নদীর পাড়, লঞ্চ টার্মিনাল সংলগ্ন মাছ ঘাট, ফাজিল মাদ্রাসার পেছনের নদীর তীর এবং বাজারের ভেতরের কিছু পরিত্যক্ত ঘর।
নতুন হাকিমউদ্দিনে:
নতুন বাজারের খোলা মাঠ, কয়েকটি পরিত্যক্ত ঘর, মাছের ঘেরের পাড়, জিলের পুকুর এলাকা ও পশ্চিম বিশারমপুর হাইস্কুল মাঠ।
স্থানীয়দের দাবি, এসব এলাকায় প্রায়ই অপরিচিত যুবকদের আনাগোনা দেখা যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে নেশার আসর। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই চক্র সক্রিয় রয়েছে।
সামাজিক প্রভাব
মাদকাসক্তির কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও পারিবারিক কলহের ঘটনাও বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন বাসিন্দারা। অনেক পরিবার তাদের সন্তানকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলো পড়ছে চরম বিপাকে।
একজন শিক্ষক বলেন, “স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিছু শিক্ষার্থীও এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এটা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য ভয়ঙ্কর সংকেত।”
করণীয় কী
সচেতন মহলের মতে, শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিয়মিত নজরদারি, সচেতনতা সভা এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানোর মাধ্যমে তরুণদের বিকল্প পথে আনা সম্ভব।
হাকিমউদ্দিনকে মাদকমুক্ত রাখতে এখনই কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। তরুণ সমাজকে রক্ষা করা মানে একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা।
Leave a Reply