
,
হাফিজুর রহমান (যশোর) প্রতিনিধি,
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতায় মাঠে থাকলেও মূল লড়াই হবে ধানের শীষ ও দাড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে। এ আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আবুল হোসেন আজাদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সুকৌশলে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মোক্তার আলী জয়ী হতে নানান কৌশলী ভ’মিকা নিয়ে এগিয়ে চলেছেন। নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত চারটি সংসদ নির্বাচনে একবার বিএনপি, জামায়াত একবার ও একটানা দুই বার আওয়ামীলীগের প্রার্থী এ আসনের এমপি নির্বাচিত হন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কাল বৃহস্পতিবার ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। আর মাত্র ১ দিন বাকী। প্রার্থীরা নিজ নিজ নেতা-কর্মীদের নিয়ে উঠান বৈঠক ও কর্মিসভার মাধ্যমে প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে এ আসনটি থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মোক্তার আলী (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির জিএম হাসান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহিদুল ইসলাম (হাতপাখা) ও আমার বাংলাদেশ পার্টির মাহমুদ হাসান (ঈগল) এক অপরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে সচেতন ভোটারদের দাবি ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের দিক থেকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী অনেক এগিয়ে রয়েছেন। তাদের ধারনা এ আসনটি পুনরুদ্ধারে জামায়তের থেকে বিএনপি অনেক এগিয়ে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোর-৬ (কেশবপুর) ১ টি পৌরসভা ও ১১ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ২৯’হাজার ১’শ ৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ১৩ হাজার ১৩৪ জন ও মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ১৩ হাজার ২”শ ৮৭ জন, তৃতীয় লিঙ্গ ২ জন ও পোস্টাল ভোটার ২”হাজার ৭”শ ৪০ জন। ৮১টি কেন্দ্রে এ ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।
সচেতন ভোটাররা বলছেন, নির্দলীয় তত্ববধায়ক সরকারের অধীনে সর্বশেষ ৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয় আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীরা। প্রাপ্ত ভোটের হিসাব অনুযায়ী জামায়াতের প্রার্থীর থেকে বিএনপির প্রার্থী ভোট পান বেশী। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোটের প্রধান শরিক জামায়াত ইসলামী ৩০০ আসনে জোটগত ভাবে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন থেকে ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হন জামায়াতের এডভোকেট গাজী এনামুল হক ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হন বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ। ২০০১ সালের নির্বাচনে ৪দলীয় জোট (জামায়াত) প্রার্থী এডভোকেট গাজী এনামুল হক ১০,৭৯০ ভোট পান ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৪ দলীয় জোটের ( বিএনপি ) প্রার্থী আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ পান ১,২২,২৮৭ ভোট। এতেই অনেকটা অনুমান করা যায় আসন্ন ত্রযয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে হবেন যশোর-৬ আসনের এমপি। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে ১,২৭,৬৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রযয়োগ করেন। তার মধ্যে ৪ দলীয় জোট প্রার্থী এডভোকেট কাজী এনামুল হক পান শতকরা ৮’৪৫ ভোট। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন পান শতকরা ৪৪’৪৫ ভোট। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে ২,৯৩,১৪১ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রযয়োগ করেন । তার মধ্যে ৪ দলীয় জোট প্রার্থী আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ পান শতকরা ৪১’ ৭২ ভোট। এছাড়া, জোট ১১৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের এ এসএইচ কে সাদেক ৩৫,২৯৩ ভোট পেয়ে এ আসনে এমপি নির্বাচিত হন।এ নির্বাচনে তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন পান ৩০,৬০৯ ভোট। জাতীয় পার্টির জিএম এরশাদ ১৮,১৮০ ভোট, জামায়াতে ইসলামীর মোক্তার আলী ১৬,৩০৯ ভোট, জাকের পার্টির জাহঙ্গীর কবির ২৪৮ ভোট পান। এ নির্বাচনে ১,০১,৭১৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োাগ করেন। তার মধ্যে বিএনপির প্রার্থী মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন পান শতকরা ৩০ ভোট। জামায়াতের মোক্তার আলী পান শতকরা ১৬ ভোট।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৯৭৩ সালে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য পিযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। ১৯৭৯ সালে শুধু কেশবপুরকে নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন যশোর-৬ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হন গাজী এরশাদ আলী। ১৯৮৬ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি আব্দুল হালিম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চাকা মার্কা নিয়ে বিজয়ী হন। ১৯৮৮ সালে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের। এরপর ১৯৯১ সালে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দল বদল করে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন পুনরায় বিএনপি থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জুনে সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের এএসএইচকে সাদেক। ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে ফের সীমানা পরিবর্তন হলে (কেশবপুর, অভয়নগর ও মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়ন) সংসদীয় আসন-৬ থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন অভয়নগরের অধ্যক্ষ শেখ আব্দুল ওহাব।

সরেজমিন পৌরসভাসহ উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ঘুরে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কথা হলে তাঁরা জানান, নির্দলীয় তত্ববধায়ক সরকারের অধীনে সর্বশেষ ৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলী মনোনীত প্রার্থীরা জয়ী হলেও প্রাপ্ত ভোটের হিসাব অনুযায়ী জামায়াতের প্রার্থীর থেকে বিএনপির প্রার্থী ভোট পান বেশী। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪ দলীয় জোটের প্রধান শরিক জামায়াত ইসলামী ৩০০ আসনে জোটগত ভাবে অংশগ্রহণ করে। এরমধ্যে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে ১,২৭,৬৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তার মধ্যে ৪ দলীয় জোট প্রার্থী এডভোকেট কাজী এনামুল হক পান শতকরা ৮’৪৫ ভোট। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন পান শতকরা ৪৪’৪৫ ভোট। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে ২,৯৩,১৪১ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন । তার মধ্যে ৪ দলীয় জোট প্রার্থী আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ পান শতকরা ৪১’ ৭২ ভোট। এছাড়া, ১১৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের এ এসএইচ কে সাদেক ৩৫,২৯৩ ভোট পেয়ে এ আসনে এমপি নির্বাচিত হন।এ নির্বাচনে তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন পান ৩০,৬০৯ ভোট। জাতীয় পার্টির জিএম এরশাদ ১৮,১৮০ ভোট, জামায়াতে ইসলামীর মোক্তার আলী ১৬,৩০৯ ভোট, জাকের পার্টির জাহঙ্গীর কবির ২৪৮ ভোট পান। এ নির্বাচনে ১,০১,৭১৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োাগ করেন। তার মধ্যে বিএনপির প্রার্থী মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন পান শতকরা ৩০ ভোট। জামায়াতের মোক্তার আলী পান শতকরা ১৬ ভোট।
Leave a Reply