
মোঃ মনিরুল ইসলাম
সদর উপজেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া
আমরা প্রতিনিয়তই অজান্তে এমন কিছু ছোট ছোট ভুল করে থাকি, যার ফলাফল হিসেবে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা বেশি লক্ষ্য করা যায়। যেসব পরিবারে ছোট ছোট শিশু আছে, তারা সাধারণত বেশি চঞ্চল হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে আমাদের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য—আমরা অনেক সময় সেই প্রয়োজনীয় সতর্কতাটুকু অবলম্বন করি না, আর সেখান থেকেই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মাঠে কীটনাশক দেওয়ার পর তার বোতল নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলে অনেকেই তা ঘরে এনে রেখে দেন—এটি মারাত্মক ভুল। আরও বড় ভুল হলো, কীটনাশক দেওয়ার পর অবশিষ্ট ওষুধ অন্য কোনো সফট ড্রিংকসের বোতলে ভরে ঘরে রাখা। যেসব বাড়িতে ছোট শিশু আছে, তারা এসব বোতল খুব সহজেই হাতের কাছে পেয়ে যায় এবং না বুঝে পানীয় ভেবে তা পান করে ফেলে। ঠিক তখনই ঘটে যায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজে অহরহ ঘটছে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো—আমাদের নিজেদের সচেতন হওয়া। শুধু বিষাক্ত কীটনাশকই নয়, ঘরে ব্যবহৃত অন্যান্য ক্ষতিকর তরল পদার্থও কখনোই ড্রিংকসের বোতলে ভরে ঘরের ভেতরে রাখা উচিত নয়। কারণ ছোট শিশুরা ভালো-মন্দ বোঝে না। তাদের একটি ভুল সিদ্ধান্তের দায়ভার শেষ পর্যন্ত আমাদের অভিভাবকদেরই বহন করতে হয়।
এছাড়াও ছোট ছোট কিছু বস্তু যেমন—কয়েন, বরইয়ের আঁটি, চকলেট, এমনকি কলমের ঢাকনাও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে। কারণ এগুলো গিলে ফেললে শিশুর জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে।
একটি কথা আমাদের সবসময় মনে রাখা দরকার—একবার কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটে গেলে তখন আর কিছু করার থাকে না। সেই ঘটনার বোঝা সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়। তাই আসুন, আমরা সবাই সচেতন হই। সামান্য একটি ভুল থেকেই যে কত বড় বিপদ ঘটে যেতে পারে, তা আমাদের উপলব্ধি করা জরুরি।
ভুল যারা করে, ভোগান্তি মূলত তাদেরই হয়। তাই আমাদের আদরের সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য আজই সচেতন হই—এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।
Leave a Reply