ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতাদের পর্ষদ ‘Assembly of Experts’ ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে বসে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা করেছে বলে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা সূত্রগুলোর দাবি, উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে নিহত নেতার ছেলে মোজতবা খামেনি অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার সকালের মধ্যেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরসূরি ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে কিছু ধর্মীয় নেতা সতর্ক করেছেন—এ সিদ্ধান্ত তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি নিশানায় পরিণত করতে পারে।
কোমে হামলা, বৈঠক ভার্চ্যুয়াল
এদিকে ইরানের ধর্মীয় নগরী কোম–এ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ভবনটি শিয়া মুসলিমদের প্রধান শক্তিকেন্দ্রগুলোর একটি এবং সেখানে বিশেষজ্ঞ পর্ষদের সভা হওয়ার কথা ছিল বলে জানা গেছে। তবে ইরানের বার্তা সংস্থা Fars News Agency জানিয়েছে, হামলার সময় ভবনটি খালি ছিল।
সম্ভাব্য প্রার্থী ও ক্ষমতার ভারসাম্য
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরান ও শিয়া রাজনীতি–বিশেষজ্ঞ ভালি নাসর বলেন, মোজতবা খামেনির নির্বাচন হলে তা হবে একদিকে বিস্ময়কর, অন্যদিকে তা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। তাঁর মতে, “অনেক দিন ধরেই তাঁকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। যদি তিনি নির্বাচিত হন, তবে তা ইঙ্গিত দেবে যে কট্টরপন্থী ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের সমর্থনই এখন মুখ্য ভূমিকা রাখছে।”
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী হলেও জনসমক্ষে খুব কমই এসেছেন। তিনি ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য পরিচিত। সূত্রগুলোর দাবি, বর্তমান সংকটকালে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা আছে—এই যুক্তিতে গার্ড বাহিনী তাঁর পক্ষে জোর দিচ্ছে।
তেহরানভিত্তিক বিশ্লেষক মেহদি রহমাতি বলেন, “নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচিতি থাকায় এই মুহূর্তে মোজতবা সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পছন্দ।” তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ সিদ্ধান্তে জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও বিক্ষোভের সম্ভাবনাও রয়েছে।
অন্য সম্ভাব্য প্রার্থী
চূড়ান্ত বিবেচনায় থাকা অন্যদের মধ্যে রয়েছেন আলেম ও আইনজ্ঞ আলিরেজা আরাফি এবং সৈয়দ হাসান খোমেনি—যিনি ইসলামি বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি–এর নাতি।
বিশেষজ্ঞ পর্ষদের ভূমিকা
৮৮ সদস্যের ‘Assembly of Experts’ জনগণের ভোটে নির্বাচিত জ্যেষ্ঠ শিয়া ধর্মীয় নেতাদের নিয়ে গঠিত। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, এই পর্ষদই সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ, তদারকি ও প্রয়োজনে অপসারণের ক্ষমতা রাখে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ৪৭ বছরের ইতিহাসে এর আগে মাত্র একবার—১৯৮৯ সালে—আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর আলী খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়েছিল।
পারিবারিক ক্ষয়ক্ষতি
ইরান সরকার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে মোজতবা খামেনির স্ত্রী জাহরা আদেল, তাঁর মা মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ এবং মোজতবার এক ছেলেও নিহত হয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ক্ষমতার ভারসাম্য কোন দিকে গড়ায়, তা এখন দেখার বিষয়।
<p>Owner & Founder: MD Mahadi Hasan Hridoy,Co-Founder / Partner: Rajib Hasan Raju,Office Address: Sharif Para, Sadar Road, Charfassion, Bhola,Bangladesh.</p>
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি