
-----------------------------------------------------------------------------------------------
ভোলার উপকূলীয় জনপদ চরফ্যাশনে যখন আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগেনি, সেই কঠিন সময়ে সত্য প্রকাশের ব্রত নিয়ে যারা সাংবাদিকতা শুরু করেছিলেন, তাদের অন্যতম নাসিউর রহমান শিপু ফরাজী। আশির দশকের (৮০ দশক) মূল ধারার নির্ভীক সাংবাদিকতার এক জীবন্ত কিংবদন্তি তিনি। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ভোলা জেলা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তাঁর কলম সচল রয়েছে।
----------------------------------------------------------------------------------------------------------
নিচে এই প্রবীণ ও আদর্শবাদী সাংবাদিকের জীবন, কর্ম এবং সাংবাদিকতায় তাঁর অনন্য অবদান নিয়ে একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হলো:
________________________________________
১. প্রারম্ভিক জীবন ও সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি
১৯৮০-এর দশকে যখন মফস্বল সাংবাদিকতা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সুযোগ-সুবিধা ছিল সীমিত, তখন চরফ্যাশনে সাংবাদিকতার সূচনা ঘটে শিপু ফরাজীর হাত ধরে। ডাকযোগে সংবাদ পাঠানো, টাইপরাইটার ব্যবহার এবং প্রতিকূল যোগাযোগ ব্যবস্থার মাঝেও তিনি উপকূলের অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হন।
২. পেশাদারিত্ব ও গণমাধ্যমে অবদান
শিপু ফরাজী তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে অত্যন্ত সুনামের সাথে কাজ করেছেন।
• বর্তমান কর্মস্থল: তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার চরফ্যাশন উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।
• বস্তুনিষ্ঠতা: চটকদার বা হলুদ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সবসময় সত্য ও সুন্দরের পক্ষে কথা বলা তাঁর সাংবাদিকতার মূল বৈশিষ্ট্য।
৩. নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক অবদান
মফস্বল সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করতে এবং তরুণ সাংবাদিকদের দিকনির্দেশনা দিতে তিনি সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
• চরফ্যাশন প্রেসক্লাব: তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন চরফ্যাশন প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সভাপতি ও সম্পাদক হিসেবে বেশ কয়েকবার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে এই প্রেসক্লাব স্থানীয় সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও পেশাগত মান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
• প্রজন্মের মেলবন্ধন: ভোলার ৮০ দশকের প্রবীণ সাংবাদিকদের স্মৃতিচারণ, মিলনমেলা এবং বিভিন্ন প্রবীণ সাংবাদিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন ।
৪. উপকূলীয় সাংবাদিকতায় বিশেষ ভূমিকা
শিপু ফরাজীর সাংবাদিকতার বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে ভোলার চরাঞ্চল, নদীভাঙন এবং প্রান্তিক জেলেদের জীবনসংগ্রাম।
• নদীভাঙন ও জলবায়ু সংকট: মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষের দুর্দশা তিনি তাঁর লেখনীর মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরেছেন।
• জেলে ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার: ইলিশা ও চরাঞ্চলের জেলেদের জীবনযাত্রা, জলদস্যুদের উপদ্রব এবং ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় উপকূলবাসীর চরম সংকটের চিত্র তাঁর লেখনীতে বারবার ফুটে উঠেছে।
৫. সততা ও আদর্শের প্রতীক
বর্তমান সময়ে যেখানে সাংবাদিকতায় নানা ধরণের বাণিজ্যিকীকরণ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা দেখা যায়, সেখানে শিপু ফরাজী একজন আপসহীন ও সৎ সাংবাদিকের প্রতীক। দীর্ঘ চার দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কোনো প্রকার লোভ-লালসা বা ভয়ের কাছে তিনি মাথা নত করেননি। স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছে তিনি একজন ভরসা ও বিশ্বাসের নাম।
________________________________________
উপসংহার
চরফ্যাশনের সাংবাদিকতার ইতিহাস লিখতে গেলে সাংবাদিক শিপু ফরাজীর নাম অবধারিতভাবেই প্রথম সারিতে আসবে। তিনি কেবল একজন সংবাদকর্মী নন, বরং তিনি ভোলার সাংবাদিকতা জগতের এক অনন্য প্রতিষ্ঠান। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য তাঁর সততা, ত্যাগ এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আদর্শ সবসময় এক বড় অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
আজ সাংবাদিক শিপু ফরাজীর নিজ হাতে লেখা নিউজ এর কপি তার আর্কাইভ থেকে সংগ্রহ করে প্রকাশ করলাম ।

লেখক ----মোঃ মেহেদী হাসান হৃদয়
ফ্রিল্যান্স সংবাদকর্মী, চরফ্যাশন